এক দশক আগেও ঘড়ি পরা হতো কেবল সময় দেখার জন্য কিংবা ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তন সেই চেনা ঘড়িকে রূপান্তর করেছে এক মিনি-মেডিক্যাল ল্যাবে, যা এখন সার্বক্ষণিক জড়িয়ে থাকে আমাদের কবজিতে। বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে যখন হৃদরোগের (কারডিওভাসকুলার ডিজিজ) ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, তখন ‘স্মার্টওয়াচ’ বা পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি অনেকের জন্য আক্ষরিক অর্থেই ‘লাইফ সেভার’ বা জীবনরক্ষাকারী কবজ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো ঘটনাগুলো সাধারণত হুট করে ঘটে না; শরীর আগে থেকেই কিছু মৃদু সংকেত দিতে শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে টের পাওয়া কঠিন। আধুনিক স্মার্টওয়াচগুলো মূলত এখানেই বিপ্লব ঘটিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: হৃদরোগের নীরব মহামারি
বাংলাদেশে হৃদরোগের ঝুঁকি এখন আর কেবল বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; স্থূলতা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক শ্রমের অভাবে তরুণ প্রজন্মও এর শিকার হচ্ছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জিনগত কারণেই হৃদরোগের ঝুঁকি পশ্চিমা বিশ্বের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ হাইপারটেনশনে ভুগছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেছেন, যার ৫২ শতাংশের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ।
এই বাস্তবতায় দেশের শহুরে কর্মজীবী এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে স্মার্টওয়াচের ব্যবহার কেবল ফ্যাশন নয়, একটি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা হয়ে উঠছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক 













