, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি দুর্ভোগ: প্রাণহানি ৩২, আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা: আমাদের শিক্ষা কী? বন্যা পরিস্থিতি: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ দফা বিশেষ নির্দেশনা চকরিয়ায় রথযাত্রা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা: শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর আয়োজন নিশ্চিতে পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের বড় সুখবর: চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে: চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো পরিবার পানিবন্দি মানিকগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে তালা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যানজটে ভোগান্তি ইআরএল-এর তেল শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ১০০ কোটি ডলারের ‘কঠিন’ ঋণ নিচ্ছে সরকার স্থানীয়রা বঞ্চিত! মাতারবাড়ি বন্দর সড়কে বহিরাগতদের চাকরির অভিযোগে ক্ষোভ, এনআইডি তদন্তের দাবি
সম্পাদকীয়

নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা: আমাদের শিক্ষা কী?

মো: ফারুক আজম এডিটর ইন চীফ ও প্রকাশক

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যকে ছোট করা বা অন্যের সমালোচনা করা। কিন্তু নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা করার এই প্রবণতা আমাদের আদৌ কী শিক্ষা দিচ্ছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?

সমালোচনার অর্থ অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়। গঠনমূলক সমালোচনা ব্যক্তিত্বের বিকাশে সাহায্য করে, কিন্তু যখন তা নিজেকে বড় দেখানোর উদ্দেশ্যে করা হয়, তখন তা কেবল নিম্ন মানসিকতারই পরিচয় দেয়। যখন কেউ অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ান, তখন মূলত তিনি নিজের ভেতরের অস্থিরতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবকেই প্রকাশ করেন।

এই নেতিবাচক প্রবণতা থেকে আমরা যা শিখি বা শিখতে পারি:

  • নিজের সীমাবদ্ধতা: অন্যের ভুল ধরতে গিয়ে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই যে, পরশ্রীকাতরতা নিজের উন্নতির পথকে রুদ্ধ করে দেয়। অন্যের সমালোচনা করার চেয়ে নিজের কাজকে কীভাবে আরও নিখুঁত করা যায়, সেই শিক্ষাটিই আমাদের গ্রহণ করা প্রয়োজন।

  • পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব: এই চর্চা আমাদের সমাজে অসহিষ্ণুতা তৈরি করে। যখন আমরা অন্যের অর্জনকে স্বীকার করতে শিখি না, তখন আমরা নিজেরাও পারস্পরিক সম্মান হারাতে থাকি।

  • চরিত্রের প্রতিফলন: সমালোচনার ভাষা ব্যক্তির রুচি ও মূল্যবোধের পরিচয় দেয়। নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের জন্য অন্যকে হেয় করা সাময়িক তৃপ্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা কমিয়ে দেয়।

  • উন্নয়ন বনাম অবনমন: যে ব্যক্তি অন্যের সমালোচনা করে সময় পার করেন, তিনি নিজের সৃজনশীলতা ও সময় দুটিই অপচয় করেন। অথচ সেই সময়টুকু নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করলে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব হতো।

পরিশেষে, প্রকৃত মহত্ত্ব অন্যের সমালোচনায় নয়, বরং নিজেকে অন্যের তুলনায় আরও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলায়। নিজেকে জাহির করার জন্য অন্যকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা এক সাময়িক উন্মাদনা মাত্র। প্রকৃত নেতৃত্ব বা ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নিজের কাজে অটল মনোযোগের মধ্য দিয়ে। মনে রাখা জরুরি, অন্যের সমালোচনা করে সাময়িকভাবে অন্যের চেয়ে নিজেকে বড় দেখালেও, আখেরে তা নিজের ক্ষুদ্রতাকেই সবার সামনে তুলে ধরে।

আজকের এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা কি পারব না একে অপরের পরিপূরক হতে? সমালোচনার বদলে প্রশংসা এবং অন্যের সাফল্যে আনন্দ পাওয়ার অভ্যেসটিই হোক আমাদের নতুন পরিচয়।

আপনার কি মনে হয়, অন্যের সমালোচনা করার পরিবর্তে আমরা কীভাবে নিজেদের ইতিবাচক চর্চায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পারি?

জনপ্রিয়

বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সম্পাদকীয়

নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা: আমাদের শিক্ষা কী?

প্রকাশের সময় : ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যকে ছোট করা বা অন্যের সমালোচনা করা। কিন্তু নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা করার এই প্রবণতা আমাদের আদৌ কী শিক্ষা দিচ্ছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?

সমালোচনার অর্থ অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়। গঠনমূলক সমালোচনা ব্যক্তিত্বের বিকাশে সাহায্য করে, কিন্তু যখন তা নিজেকে বড় দেখানোর উদ্দেশ্যে করা হয়, তখন তা কেবল নিম্ন মানসিকতারই পরিচয় দেয়। যখন কেউ অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ান, তখন মূলত তিনি নিজের ভেতরের অস্থিরতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবকেই প্রকাশ করেন।

এই নেতিবাচক প্রবণতা থেকে আমরা যা শিখি বা শিখতে পারি:

  • নিজের সীমাবদ্ধতা: অন্যের ভুল ধরতে গিয়ে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই যে, পরশ্রীকাতরতা নিজের উন্নতির পথকে রুদ্ধ করে দেয়। অন্যের সমালোচনা করার চেয়ে নিজের কাজকে কীভাবে আরও নিখুঁত করা যায়, সেই শিক্ষাটিই আমাদের গ্রহণ করা প্রয়োজন।

  • পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব: এই চর্চা আমাদের সমাজে অসহিষ্ণুতা তৈরি করে। যখন আমরা অন্যের অর্জনকে স্বীকার করতে শিখি না, তখন আমরা নিজেরাও পারস্পরিক সম্মান হারাতে থাকি।

  • চরিত্রের প্রতিফলন: সমালোচনার ভাষা ব্যক্তির রুচি ও মূল্যবোধের পরিচয় দেয়। নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের জন্য অন্যকে হেয় করা সাময়িক তৃপ্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা কমিয়ে দেয়।

  • উন্নয়ন বনাম অবনমন: যে ব্যক্তি অন্যের সমালোচনা করে সময় পার করেন, তিনি নিজের সৃজনশীলতা ও সময় দুটিই অপচয় করেন। অথচ সেই সময়টুকু নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করলে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব হতো।

পরিশেষে, প্রকৃত মহত্ত্ব অন্যের সমালোচনায় নয়, বরং নিজেকে অন্যের তুলনায় আরও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলায়। নিজেকে জাহির করার জন্য অন্যকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা এক সাময়িক উন্মাদনা মাত্র। প্রকৃত নেতৃত্ব বা ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নিজের কাজে অটল মনোযোগের মধ্য দিয়ে। মনে রাখা জরুরি, অন্যের সমালোচনা করে সাময়িকভাবে অন্যের চেয়ে নিজেকে বড় দেখালেও, আখেরে তা নিজের ক্ষুদ্রতাকেই সবার সামনে তুলে ধরে।

আজকের এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা কি পারব না একে অপরের পরিপূরক হতে? সমালোচনার বদলে প্রশংসা এবং অন্যের সাফল্যে আনন্দ পাওয়ার অভ্যেসটিই হোক আমাদের নতুন পরিচয়।

আপনার কি মনে হয়, অন্যের সমালোচনা করার পরিবর্তে আমরা কীভাবে নিজেদের ইতিবাচক চর্চায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পারি?