টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত কক্সবাজারে অবশেষে স্বস্তির আভাস মিলতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় জেলার প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে ধীরে ধীরে বন্যার পানি নামছে। তবে পানি কমলেও মানুষের চরম দুর্ভোগ কাটেনি। অধিকাংশ এলাকায় এখনো ঘরবাড়ি, আঙিনা ও গ্রামীণ সড়কে জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। সুপেয় পানি, খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রীর সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো দুর্গত মানুষ।
চলতি দুর্যোগে এখন পর্যন্ত পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে মাটিচাপায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
পরিস্থিতির উন্নতি ও নৌযান চলাচল শুরু
রোববার (১২ জুলাই) বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, রামু, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করে।
-
আবহাওয়া স্বাভাবিক: সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে নতুন করে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সতর্কতা সংকেত প্রত্যাহার করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
-
যোগাযোগ সচল: সমুদ্র ও নদ-নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার নৌযান চলাচল আবার শুরু হয়েছে। ঘাটে আটকে থাকা ট্রলার ও স্পিডবোটগুলো সোমবার সকাল থেকে যাত্রী পরিবহন করছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া-পেকুয়া: তীব্র খাদ্য ও পানি সংকট
পানি নামতে শুরু করায় বিভিন্ন এলাকায় বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অসংখ্য ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী নদী তীরবর্তী এলাকায়।
পেকুয়ার বাসিন্দা সাকিব হাসান ও চকরিয়ার কাকরা এলাকার মহিউদ্দিন রনি জানান, পানি কমলেও এলাকায় এখন বিশুদ্ধ সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাদের জন্য উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে, তবে জোয়ারের কারণে লোকালয়ের পানি পুরোপুরি নামতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে চকরিয়ায় ত্রাণ বিতরণকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন বলেন,
“বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষ সরকারি সহায়তা পাবে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ না কমা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, অবকাঠামো সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্গঠনে সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি 











