ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে কঠিন শর্তে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার (দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) ঋণ নিচ্ছে সরকার। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) দেওয়া এই ঋণ গ্রহণের বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে চূড়ান্ত সম্মতি জ্ঞাপন করেছে।
অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার তুলনায় এই ঋণের সুদের হার যেমন বেশি, তেমনি এতে রেয়াতি বা গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধাও বেশ কম থাকবে।
অনমনীয় ঋণ-সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সরকারের ‘অনমনীয় ঋণ-সংক্রান্ত কমিটি’ গত মঙ্গলবার এই ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক আলোচনায় আইএসডিবির পক্ষ থেকে এই ঋণের বিষয়ে তাদের সম্মতির কথা জানানো হয়।
ঋণের শর্ত ও সুদের হার
এই ঋণটি আইএসডিবির লিজ ফাইন্যান্সিং মডেলে দেওয়া হবে।
-
সুদের হিসাব: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক সুদের হার নির্ধারণী সূচক ‘সোফর’ (সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট)-এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৬০ শতাংশ স্প্রেড যোগ করে সুদের হার নির্ধারিত হবে।
-
মোট সুদ: বর্তমানে সোফর রেট ৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকায়, সব মিলিয়ে এই ঋণের মোট সুদের হার দাঁড়াবে প্রায় ৬ দশমিক ৬০ থেকে ৭ শতাংশের মতো।
কেন এই কঠিন ঋণ?
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশের সামষ্টিক জ্বালানি সংকট মেটাতেই এই কঠিন শর্তের ঋণ নিতে সম্মত হয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগগুলো ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসায় সরকার এখন বাজারভিত্তিক এবং উচ্চ ব্যয়সম্পন্ন বৈদেশিক ঋণের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রকল্পের সুফল: এই ঋণ সহায়তার মাধ্যমে ইআরএলের দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির তেল শোধন ক্ষমতা বছরে আরও ৩০ লাখ টনে উন্নীত হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

M NEWS 365 ডেস্ক 
















