, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি দুর্ভোগ: প্রাণহানি ৩২, আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা: আমাদের শিক্ষা কী? বন্যা পরিস্থিতি: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ দফা বিশেষ নির্দেশনা চকরিয়ায় রথযাত্রা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা: শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর আয়োজন নিশ্চিতে পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের বড় সুখবর: চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে: চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো পরিবার পানিবন্দি মানিকগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে তালা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যানজটে ভোগান্তি ইআরএল-এর তেল শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ১০০ কোটি ডলারের ‘কঠিন’ ঋণ নিচ্ছে সরকার স্থানীয়রা বঞ্চিত! মাতারবাড়ি বন্দর সড়কে বহিরাগতদের চাকরির অভিযোগে ক্ষোভ, এনআইডি তদন্তের দাবি
কক্সবাজার

মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে: চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো পরিবার পানিবন্দি

মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে: চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো পরিবার পানিবন্দি

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চকরিয়ায় এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি বিভিন্ন লোকালয় প্লাবিত করায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যার ফলে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যেসব এলাকা

বন্যার পানিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ফাঁসিয়াখালী, কাকারা ও মানিকপুর ইউনিয়ন।

  • লক্ষারচর, বড়ইতলী ও পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন।

  • চকরিয়া পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড।

বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বৃদ্ধ, শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই নিজেদের ঘর ছেড়ে উঁচু স্থান ও সড়কের ওপর আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ও তীব্র সংকট

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ায় এক হাজার হেক্টরেরও বেশি আবাদি জমির আমন ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার দুই ফসলই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতাও পাইনি।”

ফসলহানির পাশাপাশি বর্তমানে দুর্গত এলাকায় নিম্নলিখিত সংকটগুলো প্রকট হয়ে উঠেছে:

  • বিশুদ্ধ পানির সংকট: বন্যার পানিতে এলাকার নলকূপগুলো তলিয়ে যাওয়ায় পানের যোগ্য বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে।

  • খাদ্য সংকট: রান্নার সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারের অভাবে বহু পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

  • গবাদিপশুর সংকট: গবাদিপশুর জন্য নিরাপদ আশ্রয় এবং খাদ্যের (খড়/ঘাস) তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আশ্বাস

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “গত তিন থেকে চার দিনের ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবার মজুদ রয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।

জনপ্রিয়

বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কক্সবাজার

মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে: চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো পরিবার পানিবন্দি

প্রকাশের সময় : ১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চকরিয়ায় এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি বিভিন্ন লোকালয় প্লাবিত করায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যার ফলে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যেসব এলাকা

বন্যার পানিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ফাঁসিয়াখালী, কাকারা ও মানিকপুর ইউনিয়ন।

  • লক্ষারচর, বড়ইতলী ও পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন।

  • চকরিয়া পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড।

বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বৃদ্ধ, শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই নিজেদের ঘর ছেড়ে উঁচু স্থান ও সড়কের ওপর আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ও তীব্র সংকট

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ায় এক হাজার হেক্টরেরও বেশি আবাদি জমির আমন ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার দুই ফসলই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতাও পাইনি।”

ফসলহানির পাশাপাশি বর্তমানে দুর্গত এলাকায় নিম্নলিখিত সংকটগুলো প্রকট হয়ে উঠেছে:

  • বিশুদ্ধ পানির সংকট: বন্যার পানিতে এলাকার নলকূপগুলো তলিয়ে যাওয়ায় পানের যোগ্য বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে।

  • খাদ্য সংকট: রান্নার সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারের অভাবে বহু পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

  • গবাদিপশুর সংকট: গবাদিপশুর জন্য নিরাপদ আশ্রয় এবং খাদ্যের (খড়/ঘাস) তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আশ্বাস

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “গত তিন থেকে চার দিনের ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবার মজুদ রয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।