ইউরোপজুড়ে চলমান নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, তাপজনিত চাপ বা ‘হিট স্ট্রেস’ এখন এক নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও রেকর্ড তাপমাত্রা
ইউরোপের দেশগুলোতে একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে:
-
জার্মানি: টানা তৃতীয় দিনের মতো সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে, দেশটিতে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
-
চেক প্রজাতন্ত্র: রাজধানী প্রাগের উত্তরের ডোকসানিতে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
-
পোল্যান্ড: দেশটির স্লুবিচে শহরে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
ডব্লিউএইচও প্রধান জানান, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ এবং এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।
প্রভাব ও প্রাণহানি
তাপপ্রবাহের ফলে মহাদেশজুড়ে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে:
-
ফ্রান্সের পরিস্থিতি: শুধু ফ্রান্সেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী। এছাড়া নদীতে গোসল করতে গিয়ে অন্তত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
-
জরুরি ব্যবস্থা: তীব্র গরমের কারণে নেদারল্যান্ডসে জনপ্রিয় সংগীত উৎসব ‘ডেফকন.১’ বাতিল করা হয়েছে। প্যারিসে প্রকাশ্যে অ্যালকোহল পান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
কেন ঘটছে এমন চরম আবহাওয়া?
আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতির পেছনে ‘হিট ডোম’ (Heat Dome) নামক এক আবহাওয়াজনিত অবস্থাকে দায়ী করছেন। এতে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের বাতাস নিচে নেমে এসে সংকুচিত ও উত্তপ্ত হয়, ফলে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায় এবং মেঘ তৈরি হতে বাধা দেয়। এতে প্রচণ্ড সূর্যালোকে ভূমি অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠে।
ডব্লিউএইচও-এর আহ্বান: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে ‘হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দেবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













