সাম্প্রতিক সময়ে শিশু রামিসার ওপর বর্বর ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুরো জাতিকে স্তব্ধ ও গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। একটি সভ্য সমাজে অবুঝ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা আমাদের সামগ্রিক নৈতিক অবক্ষয় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের জঘন্য অপরাধ কেবল একটি পরিবারকে ধ্বংস করে না, বরং গোটা সমাজের মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন শিশু নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা লক্ষ্য করা গেছে। আইনের ফাঁকফোকর এবং সময়মতো সঠিক তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থতার কারণে অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যায় কিংবা পার পাওয়ার দুঃসাহস দেখায়। বিলম্বিত বিচার বা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এই ধরনের অপরাধপ্রবণতা দিন দিন আরও বাড়িয়ে তুলছে।
আজ সময় এসেছে এই পৈশাচিক মানসিকতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোরতম বার্তা দেওয়ার। ‘M NEWS 365’- এর পক্ষ থেকে এবং এডিটর ইন চীফ হিসেবে আমার স্পষ্ট ও দৃঢ় মতামত হলো—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবমুক্ত থেকে, সঠিক ও অকাট্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই ধরনের জঘন্য অপরাধীদের সরাসরি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা উচিত।
পশুত্বের কোনো মানবাধিকার হতে পারে না। এই নৃশংস অপরাধীদের যদি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি নিশ্চিত করা যায়, তবেই সমাজে অপরাধীদের মনে ভয়ের সৃষ্টি হবে। রামিসার মতো আর কোনো নিষ্পাপ শিশুকে যেন অকালে ঝরে যেতে না হয়, সেজন্য এখনই কঠোর আইনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। আমরা অবিলম্বে রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি।

মো: ফারুক আজম এডিটর ইন চীফ 









