, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি দুর্ভোগ: প্রাণহানি ৩২, আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা: আমাদের শিক্ষা কী? বন্যা পরিস্থিতি: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ দফা বিশেষ নির্দেশনা চকরিয়ায় রথযাত্রা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা: শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর আয়োজন নিশ্চিতে পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের বড় সুখবর: চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে: চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো পরিবার পানিবন্দি মানিকগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে তালা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যানজটে ভোগান্তি ইআরএল-এর তেল শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ১০০ কোটি ডলারের ‘কঠিন’ ঋণ নিচ্ছে সরকার স্থানীয়রা বঞ্চিত! মাতারবাড়ি বন্দর সড়কে বহিরাগতদের চাকরির অভিযোগে ক্ষোভ, এনআইডি তদন্তের দাবি
মধ্যপ্রাচ্য

চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হলেই আলোচনা, ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা নেই তেহরানের : আরাগচি

  • প্রকাশের সময় : ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ১৭৯ পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের ‘কোনো আস্থা নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হলে তবেই কেবল তেহরান তাদের সঙ্গে বসতে আগ্রহী। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

আরাগচি বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ‘যুদ্ধে লিপ্ত’ নয়, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে এ জন্য ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করছেন আরাগচি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের পরিস্থিতি এখন ‘খুবই জটিল’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার রক্ষক হিসেবে ইরান সব সময় তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। এরপর ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি তেল–গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথে পরিবহন করা হয়।

আলোচনায় অচলাবস্থা

ওয়াশিংটন ও তেহরান গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে দুই দেশ হিমশিম খাচ্ছে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই একে অপরের সর্বশেষ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। এর পর থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাংঘর্ষিক বার্তার’ কারণে মার্কিনদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরানের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়নি, তবে তা নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

গত ১৩ মাসে তেহরানের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে আলোচনা থামিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিতে ইরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজনে আবারও যুদ্ধে ফিরতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানান আরাগচি।

দুই পক্ষের আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ।

আরাগচির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতি তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আলাপকালে তেহরানকে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি একমত হয়েছেন বলেও জানান।

বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চাইলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সহায়তা করতে সক্ষম যেকোনো দেশের উদ্যোগকেই মূল্যায়ন করে ইরান।

আরাগচি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। আমরা কৌশলগত অংশীদার। আমরা জানি, চীনাদের উদ্দেশ্য ভালো। তাই কূটনীতিতে সহায়তা করতে তারা যা করবে, সেটিকেই আমরা স্বাগত জানাব।’

আরাগচি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, আলোচনার অগ্রগতির মাধ্যমে একটি ভালো সমাধানে পৌঁছাতে পারব। এতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিরাপদ হবে এবং আমরা সেখানে দ্রুত নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে পারব।’

জনপ্রিয়

বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্য

চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হলেই আলোচনা, ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা নেই তেহরানের : আরাগচি

প্রকাশের সময় : ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের ‘কোনো আস্থা নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হলে তবেই কেবল তেহরান তাদের সঙ্গে বসতে আগ্রহী। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

আরাগচি বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ‘যুদ্ধে লিপ্ত’ নয়, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে এ জন্য ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করছেন আরাগচি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের পরিস্থিতি এখন ‘খুবই জটিল’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার রক্ষক হিসেবে ইরান সব সময় তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। এরপর ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি তেল–গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথে পরিবহন করা হয়।

আলোচনায় অচলাবস্থা

ওয়াশিংটন ও তেহরান গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে দুই দেশ হিমশিম খাচ্ছে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই একে অপরের সর্বশেষ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। এর পর থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাংঘর্ষিক বার্তার’ কারণে মার্কিনদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরানের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়নি, তবে তা নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

গত ১৩ মাসে তেহরানের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে আলোচনা থামিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিতে ইরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজনে আবারও যুদ্ধে ফিরতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানান আরাগচি।

দুই পক্ষের আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ।

আরাগচির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতি তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আলাপকালে তেহরানকে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি একমত হয়েছেন বলেও জানান।

বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চাইলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সহায়তা করতে সক্ষম যেকোনো দেশের উদ্যোগকেই মূল্যায়ন করে ইরান।

আরাগচি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। আমরা কৌশলগত অংশীদার। আমরা জানি, চীনাদের উদ্দেশ্য ভালো। তাই কূটনীতিতে সহায়তা করতে তারা যা করবে, সেটিকেই আমরা স্বাগত জানাব।’

আরাগচি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, আলোচনার অগ্রগতির মাধ্যমে একটি ভালো সমাধানে পৌঁছাতে পারব। এতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিরাপদ হবে এবং আমরা সেখানে দ্রুত নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে পারব।’