, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি দুর্ভোগ: প্রাণহানি ৩২, আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা: আমাদের শিক্ষা কী? বন্যা পরিস্থিতি: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ দফা বিশেষ নির্দেশনা চকরিয়ায় রথযাত্রা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা: শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর আয়োজন নিশ্চিতে পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের বড় সুখবর: চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে: চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো পরিবার পানিবন্দি মানিকগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে তালা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যানজটে ভোগান্তি ইআরএল-এর তেল শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ১০০ কোটি ডলারের ‘কঠিন’ ঋণ নিচ্ছে সরকার স্থানীয়রা বঞ্চিত! মাতারবাড়ি বন্দর সড়কে বহিরাগতদের চাকরির অভিযোগে ক্ষোভ, এনআইডি তদন্তের দাবি
কক্সবাজার

চকরিয়ায় বিএডিসির প্রকল্পে তোলপাড়: কর্মকর্তা যখন নিজেই ঠিকাদার!

চকরিয়ায় বিএডিসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ: তদন্তের দাবি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) চকরিয়া ইউনিটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে খাল খনন, পুনঃখনন, কালভার্ট নির্মাণ ও বিভিন্ন সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি—সরকারের কৃষি উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা ও স্বজনপ্রীতি

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান সরকারের গ্রামীণ কৃষি বিপ্লব কর্মসূচির আওতায় খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রকল্পের কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত ঠিকাদার বা দরপত্র প্রক্রিয়া আড়াল করে নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “তিনি একদিকে সরকারি কর্মকর্তা, অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের নিয়ন্ত্রক। ফলে কাজের মান, ব্যয়ের হিসাব ও প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো স্বচ্ছতা নেই।”

কাগজে-কলমে কাজ, বাস্তবে অর্থ আত্মসাৎ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খাল খনন ও পুনঃখননের নামে লাখ লাখ টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও খাল আংশিক খনন করেই পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে, আবার কোথাও কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্প সমাপ্ত দেখিয়ে অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

নিম্নমানের সামগ্রী ও কালভার্টে ফাটল

এছাড়াও বিএডিসির আওতাধীন বিভিন্ন কালভার্ট নির্মাণ ও ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি এলাকায় নির্মিত কালভার্টে ইতিমধ্যেই ফাটল ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, কৃষকদের সুবিধার জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এতে সাধারণ কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।

দুদক ও মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ

জানা গেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক। যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সকল প্রকল্প সরকারি নিয়মনীতি মেনেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল বলছে, কৃষি ও সেচ খাতের উন্নয়নে সরকার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না। চকরিয়ার বিএডিসি প্রকল্পগুলোতে ওঠা অভিযোগগুলো দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয়

বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কক্সবাজার

চকরিয়ায় বিএডিসির প্রকল্পে তোলপাড়: কর্মকর্তা যখন নিজেই ঠিকাদার!

প্রকাশের সময় : ০২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

চকরিয়ায় বিএডিসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ: তদন্তের দাবি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) চকরিয়া ইউনিটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে খাল খনন, পুনঃখনন, কালভার্ট নির্মাণ ও বিভিন্ন সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি—সরকারের কৃষি উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা ও স্বজনপ্রীতি

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান সরকারের গ্রামীণ কৃষি বিপ্লব কর্মসূচির আওতায় খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রকল্পের কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত ঠিকাদার বা দরপত্র প্রক্রিয়া আড়াল করে নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “তিনি একদিকে সরকারি কর্মকর্তা, অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের নিয়ন্ত্রক। ফলে কাজের মান, ব্যয়ের হিসাব ও প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো স্বচ্ছতা নেই।”

কাগজে-কলমে কাজ, বাস্তবে অর্থ আত্মসাৎ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খাল খনন ও পুনঃখননের নামে লাখ লাখ টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও খাল আংশিক খনন করেই পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে, আবার কোথাও কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্প সমাপ্ত দেখিয়ে অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

নিম্নমানের সামগ্রী ও কালভার্টে ফাটল

এছাড়াও বিএডিসির আওতাধীন বিভিন্ন কালভার্ট নির্মাণ ও ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি এলাকায় নির্মিত কালভার্টে ইতিমধ্যেই ফাটল ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, কৃষকদের সুবিধার জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এতে সাধারণ কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।

দুদক ও মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ

জানা গেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক। যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সকল প্রকল্প সরকারি নিয়মনীতি মেনেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল বলছে, কৃষি ও সেচ খাতের উন্নয়নে সরকার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না। চকরিয়ার বিএডিসি প্রকল্পগুলোতে ওঠা অভিযোগগুলো দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।