‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’—লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির এই আকুল ও আবেগঘন ধ্বনিতে মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে সুসম্পন্ন হলো পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
পবিত্র আরাফাত ময়দানে লাখ লাখ হাজির সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মুসলিমের এক মহাসম্মিলন প্রত্যক্ষ করল পবিত্র মক্কা। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও অস্থিরতার আবহের মধ্যেও এবার হজের এই পুণ্যভূমিতে নেমে এসেছিল শুভ্রতার অপার শান্তি।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি পাপমুক্তি, আত্মশুদ্ধি ও বিশ্ব শান্তির আকুল বাসনা নিয়ে এবার পবিত্র হজ পালন করেছেন। বাংলাদেশ থেকেও এবার প্রায় ৭৯ হাজার হাজি এই পবিত্র মহাসম্মিলনে অংশ নেন।
গতকাল সূর্যোদয়ের পর হাজিরা মিনার তাঁবু নগরী থেকে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হন। মরুর তীব্র গরম ও প্রায় ৪৩ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তপ্ত আবহাওয়া উপেক্ষা করেও তাঁদের কণ্ঠে ছিল একটাই রব—‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’। প্রচণ্ড রোদের কারণে হাজিদের সুবিধার্থে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে পানি ছিটানোর বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।
ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই হজ সামর্থ্যবান ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও নারীর জন্য জীবনে অন্তত একবার পালন করা ফরজ। জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম প্রধান রোকন বা ফরজ কাজ।
এদিন আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে হাজিরা কেউ ঐতিহাসিক জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়)-এর কাছাকাছি, আবার কেউ নিজের সুবিধাজনক জায়গায় বসে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন। দুপুরের পর লাখ লাখ হাজি সমবেত হন মসজিদে নামিরায়, যেখান থেকে হজের বিশেষ খুতবা প্রদান করা হয় এবং বিশ্ব মুসলিমের হেদায়েত ও ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়। আরাফাতের ময়দানে দিনভর অবস্থান শেষে সূর্যাস্তের পর হাজিরা পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার জন্য মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হন।










