, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চকরিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ: ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি প্রকাশের অভিযোগ চকরিয়ায় ৮ দিনের ব্যবধানে ফের সশস্ত্র ডাকাতি, থানা থেকে ৫০০ গজ দূরে আইনজীবীর বাসায় লুটপাট জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযান: মাটির নিচে মিলল বিদেশি পিস্তল-গুলি লাখো কণ্ঠে ‘লাব্বাইক’, মক্কায় পবিত্র হজ সম্পন্ন জীবননগরে জোরপূর্বক গৃহবধূকে তাড়িয়ে বাড়ি দখলের অভিযোগ, সন্তান নিয়ে পথে মা চকরিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও সিএনজিসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেফতার চকরিয়ায় আদালত চত্বরে আইনজীবীকে কুপিয়ে জখম, চমেকে রেফার কক্সবাজার আদালত চত্বরে গোলাগুলি: বিএনপি নেতাসহ গুলিবিদ্ধ ৫, অস্ত্রসহ আটক ৩ চকরিয়ার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা তূর্ণা নিশিতা বড়ুয়া, ফাঁসিয়াখালীতে খুশির জোয়ার। চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবা খুন, জনতা কর্তৃক ঘাতক আটক
সম্পাদকীয়

বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা, নিস্তব্ধ সমাজ, দায় কার, রাস্ট্রের ভূমিকা কি?

নিস্তব্ধ সমাজ ও বেড়ে চলা অপরাধ: দায় কার?

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোডে বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র আশফাক কবির সাজিদ (১৭)-এর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আমাদের সমাজের ভয়াবহ অবক্ষয়ের চিত্র স্পষ্ট করে তুলেছে।

একের পর এক ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনাগুলো শুধু সংখ্যায় বাড়ছে না, বরং তাদের নিষ্ঠুরতার মাত্রাও ভয়ঙ্করভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এসব ঘটনার সময় সমাজের একাংশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। চট্টগ্রামের ঘটনায় যেমন অনেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। ভয়, উদাসীনতা নাকি নিজের নিরাপত্তার চিন্তা—যে কারণেই হোক, এই নীরবতা আসলে অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে।

প্রশ্ন উঠতেই পারে—দায় কার? শুধু অপরাধীর, নাকি পুরো সমাজের? রাষ্ট্র কি তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব কোথায়? বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা কি অপরাধীদেরকে নির্ভয় করে তুলছে? নাকি আমরা নিজেরাই দায়ী—যারা ঘটনা দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিই?

আমাদের সমাজ আজ এক ভয়ানক সংকটের মধ্যে পড়েছে। অপরাধ প্রবণতা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানুষের মধ্যে সাহস ও নৈতিক স্পৃহা কমে যাচ্ছে। যদি কেউ অপরাধ করতে দেখেও এগিয়ে না আসে, তাহলে আজ রামিসা বা সাজিদ, কাল হয়তো আমাদেরই সন্তান বা পরিবারের সদস্য হতে পারে। ভয়ে চুপ করে থাকলে কেউ নিরাপদ থাকবে না। কারণ নীরবতা অপরাধের পৃষ্ঠপোষক।

এডিটর ইন চীফ হিসেবে আমার স্পষ্ট মত:

অপরাধ দেখামাত্রই সাহস করে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশে খবর দিতে হবে, ভিডিও করতে হবে, সাক্ষী হতে হবে। সমাজ যদি সক্রিয় না হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একা কখনো অপরাধ দমন করতে পারবে না। পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও তার দায়িত্ব পালন করতে হবে—দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।

আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে—আজ যদি আমরা চুপ করে থাকি, কাল আমাদের পালা আসবে। সমাজ যখন সোচ্চার হয়, তখনই অপরাধীদের মনে ভয় জাগে। নীরবতা নয়, সাহসই আজ সময়ের দাবি।

চকরিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ: ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি প্রকাশের অভিযোগ

সম্পাদকীয়

বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা, নিস্তব্ধ সমাজ, দায় কার, রাস্ট্রের ভূমিকা কি?

প্রকাশের সময় : ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নিস্তব্ধ সমাজ ও বেড়ে চলা অপরাধ: দায় কার?

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোডে বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র আশফাক কবির সাজিদ (১৭)-এর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আমাদের সমাজের ভয়াবহ অবক্ষয়ের চিত্র স্পষ্ট করে তুলেছে।

একের পর এক ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনাগুলো শুধু সংখ্যায় বাড়ছে না, বরং তাদের নিষ্ঠুরতার মাত্রাও ভয়ঙ্করভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এসব ঘটনার সময় সমাজের একাংশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। চট্টগ্রামের ঘটনায় যেমন অনেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। ভয়, উদাসীনতা নাকি নিজের নিরাপত্তার চিন্তা—যে কারণেই হোক, এই নীরবতা আসলে অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে।

প্রশ্ন উঠতেই পারে—দায় কার? শুধু অপরাধীর, নাকি পুরো সমাজের? রাষ্ট্র কি তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব কোথায়? বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা কি অপরাধীদেরকে নির্ভয় করে তুলছে? নাকি আমরা নিজেরাই দায়ী—যারা ঘটনা দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিই?

আমাদের সমাজ আজ এক ভয়ানক সংকটের মধ্যে পড়েছে। অপরাধ প্রবণতা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানুষের মধ্যে সাহস ও নৈতিক স্পৃহা কমে যাচ্ছে। যদি কেউ অপরাধ করতে দেখেও এগিয়ে না আসে, তাহলে আজ রামিসা বা সাজিদ, কাল হয়তো আমাদেরই সন্তান বা পরিবারের সদস্য হতে পারে। ভয়ে চুপ করে থাকলে কেউ নিরাপদ থাকবে না। কারণ নীরবতা অপরাধের পৃষ্ঠপোষক।

এডিটর ইন চীফ হিসেবে আমার স্পষ্ট মত:

অপরাধ দেখামাত্রই সাহস করে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশে খবর দিতে হবে, ভিডিও করতে হবে, সাক্ষী হতে হবে। সমাজ যদি সক্রিয় না হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একা কখনো অপরাধ দমন করতে পারবে না। পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও তার দায়িত্ব পালন করতে হবে—দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।

আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে—আজ যদি আমরা চুপ করে থাকি, কাল আমাদের পালা আসবে। সমাজ যখন সোচ্চার হয়, তখনই অপরাধীদের মনে ভয় জাগে। নীরবতা নয়, সাহসই আজ সময়ের দাবি।