, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি দুর্ভোগ: প্রাণহানি ৩২, আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা: আমাদের শিক্ষা কী? বন্যা পরিস্থিতি: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ দফা বিশেষ নির্দেশনা চকরিয়ায় রথযাত্রা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা: শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর আয়োজন নিশ্চিতে পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের বড় সুখবর: চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে: চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো পরিবার পানিবন্দি মানিকগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে তালা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যানজটে ভোগান্তি ইআরএল-এর তেল শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ১০০ কোটি ডলারের ‘কঠিন’ ঋণ নিচ্ছে সরকার স্থানীয়রা বঞ্চিত! মাতারবাড়ি বন্দর সড়কে বহিরাগতদের চাকরির অভিযোগে ক্ষোভ, এনআইডি তদন্তের দাবি
কক্সবাজার

চকরিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ: ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি প্রকাশের অভিযোগ

ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশের অভিযোগে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এই নোটিশটি প্রেরণ করেন।

মূল অভিযোগ ও আইনি লঙ্ঘন

বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নোটিশে বলা হয়, চকরিয়া থানার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ভিকটিমের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

  • আইনি পরিপন্থী: আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির পরিচয় বা ছবি প্রকাশ করা মানবাধিকার ও ভিকটিম সুরক্ষা নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

  • হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য: এ বিষয়ে হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ছবি প্রকাশ করা আদালতের অবমাননা এবং দায়িত্বহীন প্রশাসনিক আচরণের শামিল।

  • নিরাপত্তা ঝুঁকি: এই কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগী কিশোরীর মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

নোটিশে উত্থাপিত ৫টি মূল দাবি

নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দাবিতে বলা হয়:

১. ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করতে হবে। ২. অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওসি মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিকটিমের ছবি ও পরিচয় দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ৪. ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশের সকল ইউনিট ও পেজ পরিচালনাকারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করতে হবে। ৫. নোটিশের প্রেক্ষিতে গৃহীত পদক্ষেপ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

মানবাধিকারকর্মীদের অভিমত: যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং একটি মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট মহল থেকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কক্সবাজার

চকরিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ: ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ছবি প্রকাশের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশের অভিযোগে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এই নোটিশটি প্রেরণ করেন।

মূল অভিযোগ ও আইনি লঙ্ঘন

বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নোটিশে বলা হয়, চকরিয়া থানার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ভিকটিমের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

  • আইনি পরিপন্থী: আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির পরিচয় বা ছবি প্রকাশ করা মানবাধিকার ও ভিকটিম সুরক্ষা নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

  • হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য: এ বিষয়ে হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ছবি প্রকাশ করা আদালতের অবমাননা এবং দায়িত্বহীন প্রশাসনিক আচরণের শামিল।

  • নিরাপত্তা ঝুঁকি: এই কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগী কিশোরীর মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

নোটিশে উত্থাপিত ৫টি মূল দাবি

নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দাবিতে বলা হয়:

১. ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করতে হবে। ২. অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওসি মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিকটিমের ছবি ও পরিচয় দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ৪. ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশের সকল ইউনিট ও পেজ পরিচালনাকারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করতে হবে। ৫. নোটিশের প্রেক্ষিতে গৃহীত পদক্ষেপ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

মানবাধিকারকর্মীদের অভিমত: যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং একটি মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট মহল থেকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়েছে।