, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি দুর্ভোগ: প্রাণহানি ৩২, আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা: আমাদের শিক্ষা কী? বন্যা পরিস্থিতি: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ দফা বিশেষ নির্দেশনা চকরিয়ায় রথযাত্রা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা: শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর আয়োজন নিশ্চিতে পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের বড় সুখবর: চালু হলো নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে: চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো পরিবার পানিবন্দি মানিকগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে তালা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যানজটে ভোগান্তি ইআরএল-এর তেল শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ১০০ কোটি ডলারের ‘কঠিন’ ঋণ নিচ্ছে সরকার স্থানীয়রা বঞ্চিত! মাতারবাড়ি বন্দর সড়কে বহিরাগতদের চাকরির অভিযোগে ক্ষোভ, এনআইডি তদন্তের দাবি
কক্সবাজার

চকরিয়ায় ৮ দিনের ব্যবধানে ফের সশস্ত্র ডাকাতি, থানা থেকে ৫০০ গজ দূরে আইনজীবীর বাসায় লুটপাট

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাত্র আট দিনের ব্যবধানে আবারও সংঘটিত হয়েছে এক ভয়াবহ সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা। এবার দুর্বৃত্তদের টার্গেট হয়েছেন চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিব উদ্দিন মিন্টু। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তার বাসভবনটি চকরিয়া থানা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত। থানার এত কাছে এমন দুর্ধর্ষ অপরাধের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও লুটপাট

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত অ্যাডভোকেট হাবিব উদ্দিন মিন্টুর বাসায় হানা দেয়। ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি ও আতঙ্কিত করে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

৮ দিনের ব্যবধানে ধারাবাহিক অপরাধ

এর আগে গত ২৬ মে একই রাতে চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী ও ইসলামনগর এলাকায় দুটি বাড়িতে একই কায়দায় সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ও পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ৮ দিনের মাথায় থানা সংলগ্ন এলাকায় এই নতুন ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন: “যদি থানার অদূরে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর বাসভবনেও ডাকাতরা এভাবে নির্বিঘ্নে হামলা চালাতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? ধারাবাহিক এসব ঘটনার পরও অপরাধীরা কেন এখনো অধরা?”

জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের নীরবতা

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চকরিয়ায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এসব অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের চরম অভাব রয়েছে।

এই ধারাবাহিক ডাকাতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাগরিক সমাজের দাবি

স্থানীয় সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা বলেন, “থানার এত কাছে বারবার ডাকাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশের টহল ব্যবস্থা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং রাতের বেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।”

চকরিয়ার সাধারণ মানুষ এখন আর কোনো আশ্বাস নয়, বরং অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়।

জনপ্রিয়

বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কক্সবাজার

চকরিয়ায় ৮ দিনের ব্যবধানে ফের সশস্ত্র ডাকাতি, থানা থেকে ৫০০ গজ দূরে আইনজীবীর বাসায় লুটপাট

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাত্র আট দিনের ব্যবধানে আবারও সংঘটিত হয়েছে এক ভয়াবহ সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা। এবার দুর্বৃত্তদের টার্গেট হয়েছেন চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিব উদ্দিন মিন্টু। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তার বাসভবনটি চকরিয়া থানা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত। থানার এত কাছে এমন দুর্ধর্ষ অপরাধের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও লুটপাট

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত অ্যাডভোকেট হাবিব উদ্দিন মিন্টুর বাসায় হানা দেয়। ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি ও আতঙ্কিত করে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

৮ দিনের ব্যবধানে ধারাবাহিক অপরাধ

এর আগে গত ২৬ মে একই রাতে চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী ও ইসলামনগর এলাকায় দুটি বাড়িতে একই কায়দায় সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ও পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ৮ দিনের মাথায় থানা সংলগ্ন এলাকায় এই নতুন ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন: “যদি থানার অদূরে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর বাসভবনেও ডাকাতরা এভাবে নির্বিঘ্নে হামলা চালাতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? ধারাবাহিক এসব ঘটনার পরও অপরাধীরা কেন এখনো অধরা?”

জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের নীরবতা

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চকরিয়ায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এসব অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের চরম অভাব রয়েছে।

এই ধারাবাহিক ডাকাতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাগরিক সমাজের দাবি

স্থানীয় সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা বলেন, “থানার এত কাছে বারবার ডাকাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশের টহল ব্যবস্থা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং রাতের বেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।”

চকরিয়ার সাধারণ মানুষ এখন আর কোনো আশ্বাস নয়, বরং অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়।