কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একাধিক ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি।
সোমবার (২৫ মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের হালকাকারা এলাকার চকরিয়া-বেতুয়া বাজার সড়কের আমান্যার চর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: ১. আইয়ুব আলী (৪২) ২. ইব্রাহিম সোহেল (২৭) ৩. আবু হানিফ (২৯) ৪. সাইফুল ইসলাম (২০)
৫. নাজিম উদ্দিন (৪৮)।
পুলিশি অভিযান ও আটক: চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে যে, একদল সশস্ত্র ডাকাত আমান্যার চর ব্রিজ এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। খবর পেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ চারপাশ থেকে ঘেরাও করে ধাওয়া দেয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ উক্ত পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি কোড়াবাড়ি, একটি লোহার খন্তি, একটি ধারালো ছোরা এবং একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ ও পূর্ব অপরাধ: চকরিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন ছোট-বড় যানবাহন এবং সাধারণ যাত্রীদের টার্গেট করে রাতে ও ভোরে ডাকাতি-ছিনতাই চালিয়ে আসছিল বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা: এ ঘটনার পর গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় (ডাকাতির প্রস্তুতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ) চকরিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-৫৩, তারিখ: ২৬/০৫/২০২৬)। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
চকরিয়া থানার ওসি মোঃ মনির হোসেন বলেন, “চকরিয়া থানা এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষা ও সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

চকরিয়া প্রতিনিধি: 








