চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক অসহায় গৃহবধূর বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখল ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নার্সারি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে বর্তমানে নিজের সন্তান ও মেয়েকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ওই ভুক্তভোগী মা। উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাপুর গ্রামের নিধিকুন্ড মৌজায় ৬৩নং আরএস খতিয়ানের আওতাভুক্ত ৪ শতক ৮৬ পয়েন্ট মূল্যবান জমিসহ একটি বসতবাড়ি আকলিমা খাতুন আঁখি নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে রেজিস্ট্রি (দলিল নং-১৪৪৯) করে দেন। এরপর থেকে আঁখি তার সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী আকলিমা খাতুন আঁখি অভিযোগ করে বলেন, “কয়েকদিন আগে ধান সিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আমি সাময়িকভাবে বাবার বাড়িতে যাই। এই সুযোগে স্থানীয় নার্সারি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক ৬০ থেকে ৭০ জনের একদল ভাড়াটে গুন্ডা বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক পুরো বাড়ি দখল করে নেয় এবং আমার ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র ও মালামাল বাইরে ফেলে দেয়। শুধু তাই নয়, আলমারি ভেঙে ঘরে থাকা নগদ ৭৫ হাজার টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে ফারুক ও তার সহযোগীরা।”
আঁখি আরও অভিযোগ করেন, “আমি বাড়ি দখলের খবর পেয়ে বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে ও আমার সন্তানদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে আমার উঠতি বয়সী মেয়ে বাড়ির বাইরে বের হলে তাকে কু-প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে এবং নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। আমরা এখন চরম অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও আমার ঘর ফেরত পাওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”
এদিকে অভিযুক্ত নার্সারি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এই জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে এবং আমার কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমি কোনো জোরজবরদস্তি করিনি, আইনগতভাবেই আমার অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, “জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং বাড়ি দখলের বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগী পক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে বাড়ি দখল ও নারীর ওপর জুলুমের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অসহায় পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আকিমুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: 








