কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মহিউদ্দিন ও রনিসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রবিবার (২৪ মে) সকাল ১১টার দিকে সংঘটিত এই নজিরবিহীন ঘটনার পর পুরো আদালত প্রাঙ্গণে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হাজিরা শেষে বের হতেই এলোপাতাড়ি গুলি
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার তাঁর সহযোগীদের নিয়ে একটি মামলার হাজিরা দিতে সকালে আদালতে আসেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লিয়াকত আলী ও তাঁর সাথে থাকা লোকজন আদালত ভবন থেকে বের হয়ে চত্বরে আসতেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের সশস্ত্র লোকজন তাদের লক্ষ্য করে আচমকা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।
আদালতের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় হঠাৎ মুহুর্মুহু গুলির শব্দে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, আদালতের কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে সবাই দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে আদালত চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ আহত ৫
গুলির ঘটনায় ঝিলংজা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মহিউদ্দিন এবং রনি নামের আরেকজন গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। উপস্থিত লোকজন ও পুলিশ দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, আটক ৩
আদালত চত্বরে গোলাগুলির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় চয়ন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, “আদালত প্রাঙ্গণে দুষ্কৃতকারীদের গোলাগুলির ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অপরাধীদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং পুরো আদালত চত্বর ঘিরে রেখে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে আদালত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি 








