চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আসন্ন ঈদকে ঘিরে সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিল্প পুলিশ-৩, চট্টগ্রাম-এর নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম । বুধবার (২০ মে) চট্টগ্রামস্থ বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক স্বাগত জানান বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ ।
অধিকাংশ কারখানায় বেতন পরিশোধ সম্পন্ন
স্বাগত অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় ইতোমধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কারখানাগুলোতেও দ্রুত পরিশোধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে । তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং জটিলতা, বন্ড ও কাস্টমস সংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও কোনো শিল্প উদ্যোক্তাই চান না যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হোক । বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোতে বেতন-বোনাস পরিশোধ এবং সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষের বিষয়গুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান ।
সেলিম রহমান আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পাঞ্চলে ঈদপূর্ব বেতন-বোনাসকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি । সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন । নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগমের নেতৃত্বে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমন্বয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে বিজিএমইএ বিশ্বাস করে এবং এ বিষয়ে সংগঠনটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে ।
চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান
বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের গার্মেন্টস শিল্পখাতে বর্তমানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে । শ্রমিক, মালিক, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, শিল্প পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বেপজাসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে । তিনি আরও জানান, শিল্প পুলিশ ও বিজিএমইএ যৌথভাবে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনাদি যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে ।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি
অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতা মোকাবিলা এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে বিজিএমইএ’র সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে । তিনি জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের সমস্যা কারখানার অভ্যন্তরেই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত এবং কোনোভাবেই যেন রাজপথ বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে । বিজিএমইএ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্পখাতের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিল্প পুলিশের এই সহযোগিতা সবসময় অব্যাহত থাকবে
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাইফ উল্যাহ মনসুর, সাকিফ আহমেদ সালাম, রাকিবুল আলম চৌধুরী, প্রাক্তন পরিচালক ও ইন্স্যুরেন্স বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, মেম্বারশিপ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ওদুদ মোহাম্মদ চৌধুরী, স্ট্যান্ডিং কমিটি অন রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান কাজী মো. শফিকুল ইসলাম (টিটু) সহ শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক। 









