কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে একটি পিভিসি প্লাস্টিক পাইপ কারখানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। জনস্বার্থে এই অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষিজমি ও পরিবেশ বিপন্ন করে কারখানা
স্থানীয়দের দাবি, নুরুদ্দিন নামের এক যুবক সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কৃষিজমির মাঝখানে এ কারখানা স্থাপন ও পরিচালনা করছেন। কারখানাটি সবজি ক্ষেতের মধ্যে স্থাপন করায় আশপাশের কৃষিজমি, পরিবেশ ও স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় চাষিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সংবাদ প্রকাশ ও মালিকের হুমকি
স্থানীয় বাসিন্দাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন সংবাদকর্মী সরেজমিনে গিয়ে কারখানার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং জনস্বার্থে একটি ভিডিও সংবাদ প্রচার করেন। সংবাদ প্রকাশের পর কারখানার মালিক নুরুদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আজ বিকেলে তিনি মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে “আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে” বলে হুমকি প্রদান করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একদল চাঁদাবাজ ও প্রভাবশালীর পরামর্শে তিনি সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন।
সংবাদমহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ
এই হুমকির ঘটনায় চকরিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন:
“জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং এটি গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা।”
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী কৃষি এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া শিল্পকারখানা গড়ে তোলা পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সাথে, মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

বিজন কুমার বিশ্বাস, চকরিয়া প্রতিনিধি: 









