কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেছেন, “পুলিশ আর কারও লাঠিয়াল বাহিনী হবে না। জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতাই নিরাপদ সমাজ গঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি। পুলিশ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচবে, জনগণের ইচ্ছায় কাঁদবে এবং জনগণের ইচ্ছায় হাসবে। একটি জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই আমাদের বর্তমান লক্ষ্য।”
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিং জোরদার বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সভাপতি সরওয়ার আলমের সভাপতিত্বে এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মজিদের সঞ্চালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বদরখালীতে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আশ্বাস
পুলিশ সুপার বলেন, বদরখালী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন সময়ের দাবি। তবে জনবল সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, সীমিত জনবল নিয়েই প্রাথমিকভাবে বদরখালীতে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাদক, অনলাইন জুয়া ও অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর বার্তা
-
অনলাইন জুয়া ও মাদক: মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ব্যক্ত করে তিনি জানান, অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে ২০ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হবে।
-
অস্ত্রের উৎস বন্ধের নির্দেশ: চকরিয়া ও মাতামুহুরীর মানুষ নিজেরা অস্ত্র তৈরি করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অস্ত্রের প্রধান উৎসস্থলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো চিরতরে বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাশ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান এবং পেকুয়া থানার ওসি মেহেদী হাসান।
এছাড়া বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সম্পাদক মঈনুদ্দিন, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় বক্তব্য রাখেন।

চকরিয়া প্রতিনিধি 











