অভিনয় ছাড়াও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বছরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ চলাকালে ফের নিজের বিয়ে নিয়ে নেটপাড়ায় চলা নানা গুঞ্জন এবং আইনি লড়াই ও শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। বুধবার রাজধানীর শুটিং ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন তিনি।
‘মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না’
বিয়ে নিয়ে প্রতিনিয়ত তৈরি হওয়া আলোচনা ও ট্রোলিং প্রসঙ্গে আক্ষেপ প্রকাশ করে পরীমণি বলেন, “আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, তবুও গালি খেতে হয়। মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না। তারা শুধু আমাকে সিঙ্গেল এবং আমার সন্তানদের সঙ্গে দেখতে চায়। কেন এমনটা হয়, আমি সত্যিই জানি না।”
গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ও আইনি লড়াই
নিজের গ্রেপ্তারের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে পরীমণি দাবি করেন, তাকে গ্রেপ্তারের সময় আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তিনি বলেন:
-
পরিকল্পিত ঘটনা: “তখন গ্রেপ্তারের কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। এমনকি আমার বাসায় তল্লাশি চালানোর অনুমতিও তাদের কাছে ছিল না। পরে পুরো ঘটনার বর্ণনা শুনে আমার মনে হয়েছে, অনেক কিছুই পরিকল্পিত ছিল।”
-
আদালতের ওপর আস্থা: আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, কোনো সত্য চিরদিন চাপা থাকে না। এই বিশ্বাস নিয়েই ছয় বছর পার করেছি। বলা হয়েছিল আমি নাকি মানুষকে ব্ল্যাকমেইল ও বিরক্ত করি। আমি আইনের ওপর বিশ্বাস রাখি, যতদিন লাগে যেভাবে লাগে হাজিরা দেব। একদিন আদালত অবশ্যই আমাকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দেবে।”
‘সব নাগরিকের নিরাপত্তা চাই’
দেশে শিল্পীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরীমণি বলেন, “শুধু শিল্পী নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিল্পী, রিকশাচালক বা অন্য যে-ই হোক, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। আমরা সবাই হেনস্তা থেকে মুক্তি চাই।”
সাকিব আল হাসান ও ফেসবুক অনুসারী প্রসঙ্গে
সম্প্রতি ফেসবুকে অনুসারীর সংখ্যায় বাংলাদেশের তারকাদের মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছেন এই অভিনেত্রী। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সাথে প্রায়ই অনুসারীর সংখ্যার তুলনা টানা নিয়ে তিনি বলেন, “গত তিন বছর ধরে দেখছি কোথাও কোথাও লেখা হয়—সাকিব আল হাসানের কাছে হেরে গেলেন পরীমণি। বিশ্বাস করুন, আমি কখনো এসব নিয়ে ভাবিনি। সাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক মানের একজন ক্রীড়াবিদ, আর আমি দেশের একজন শিল্পী। আমরা দুইজন দুই প্রান্তের মানুষ। তবে মানুষ যে আমাকে এত ভালোবাসে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

বিনোদন প্রতিবেদক 













