, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ দেশের ১৫ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি পাকিস্তান বধের নায়ক মুশফিক, জিতলেন আইসিসি ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ পুরস্কার মেসিকে নিয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা জুন মাসেই তৃতীয়বার কাঁপল দেশ: ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিজ্ঞান কী বলছে? ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ, ৯ উইকেটের বড় জয় দীর্ঘ ৮ বছর পর ওটিটি সিরিজে বিন্দুর ‘রাজকীয়’ প্রত্যাবর্তন, প্রকাশ্যে এলো ‘হেডলাইন’-এর ট্রেইলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্বল না, আভিযানিক কৌশলে পরিবর্তন: র‍্যাব হ্যাটট্রিকে মেসির নতুন ইতিহাস: বিশ্বমঞ্চে ক্লোসকে ছুঁলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর
কক্সবাজার

চকরিয়ায় প্রকল্প সমাপনী কর্মশালা: জলবায়ু সহনশীল জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তায় অর্জন তুলে ধরলেন ইউএনও শাহীন দেলোয়ার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষ ‘মোহনা’-য় জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন উপলক্ষে এক সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জার্মান কো-অপারেশন (BMZ) এর অর্থায়নে এবং ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে (WHH), আনন্দ ও সীপ (SEEP) এর যৌথ বাস্তবায়নে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।

প্রকল্পের অর্জন ও সময়সীমা

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের MEAL Officer সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান:

  • মেয়াদ: ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই প্রকল্প সফলভাবে পরিচালিত হয়।

  • উপকারভোগী: চকরিয়া ও সীতাকুণ্ড উপজেলার ৬ হাজার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

  • মূল লক্ষ্য: জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

ইউএনও শাহীন দেলোয়ারের বক্তব্য

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন দেলোয়ার বলেন,

“জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টাই টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম করতে পারে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

তিনি আরও আহ্বান জানান, প্রকল্প শেষ হলেও এর সুফল যেন দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ও কমিউনিটি গ্রুপগুলোকে সক্রিয় রাখতে হবে এবং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে।

বেনিফিশিয়ারি ও এনজিও প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা বিনিময়

কর্মশালায় উপস্থিত উপকারভোগীরা (বেনিফিশিয়ারি) তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সহায়তা, ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন, পুষ্টি সচেতনতা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির প্রশিক্ষণের ফলে অনেক পরিবার নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে পেরেছে, যা তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে, এনজিও প্রতিনিধিরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপ্তি ও নথিপত্র হস্তান্তর

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও উপকারভোগীদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। কর্মশালার শেষ পর্যায়ে প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হস্তান্তর এবং অংশগ্রহণকারীদের ফলপ্রসূ মতবিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

কক্সবাজার

চকরিয়ায় প্রকল্প সমাপনী কর্মশালা: জলবায়ু সহনশীল জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তায় অর্জন তুলে ধরলেন ইউএনও শাহীন দেলোয়ার

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষ ‘মোহনা’-য় জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন উপলক্ষে এক সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জার্মান কো-অপারেশন (BMZ) এর অর্থায়নে এবং ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে (WHH), আনন্দ ও সীপ (SEEP) এর যৌথ বাস্তবায়নে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।

প্রকল্পের অর্জন ও সময়সীমা

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের MEAL Officer সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান:

  • মেয়াদ: ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই প্রকল্প সফলভাবে পরিচালিত হয়।

  • উপকারভোগী: চকরিয়া ও সীতাকুণ্ড উপজেলার ৬ হাজার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

  • মূল লক্ষ্য: জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

ইউএনও শাহীন দেলোয়ারের বক্তব্য

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন দেলোয়ার বলেন,

“জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টাই টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম করতে পারে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

তিনি আরও আহ্বান জানান, প্রকল্প শেষ হলেও এর সুফল যেন দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ও কমিউনিটি গ্রুপগুলোকে সক্রিয় রাখতে হবে এবং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে।

বেনিফিশিয়ারি ও এনজিও প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা বিনিময়

কর্মশালায় উপস্থিত উপকারভোগীরা (বেনিফিশিয়ারি) তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সহায়তা, ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন, পুষ্টি সচেতনতা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির প্রশিক্ষণের ফলে অনেক পরিবার নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে পেরেছে, যা তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে, এনজিও প্রতিনিধিরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপ্তি ও নথিপত্র হস্তান্তর

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও উপকারভোগীদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। কর্মশালার শেষ পর্যায়ে প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হস্তান্তর এবং অংশগ্রহণকারীদের ফলপ্রসূ মতবিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।