চট্টগ্রামের লাইফলাইন খ্যাত কর্ণফুলী নদীতে পরিবেশ বিপর্যয়ের তোয়াক্কা না করে চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী চক্র। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দিন-রাত ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে দেদারসে তোলা হচ্ছে বালু। একই সাথে নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল বিশাল ‘বালুর সেল সেন্টার’ বা বিক্রয় কেন্দ্র। ফলে একদিকে যেমন নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও তীব্র ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে নদী ও আশপাশের পরিবেশ।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ও ভুক্তভোগী জনগণের অভিযোগ, প্রকাশ্যেই এই অবৈধ ব্যবসা চললেও স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা রহস্যজনকভাবে নীরব।
যা ঘটছে কর্ণফুলী জুড়ে:
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শক্তিশালী ড্রেজার ও বাল্কহেড (বালুবাহী বোট) বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিশাল বালুর স্তূপের কারণে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার পানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বালু পরিবহনের জন্য ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে নদীর পাড়ের গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়:
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রেজার দিয়ে এভাবে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে:
-
নদীভাঙন: নদীর তলদেশ অসমভাবে গভীর হয়ে যাওয়ায় তীরবর্তী এলাকা, ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
-
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: কর্ণফুলীর বিপন্ন প্রজাতির ডলফিন (শুশুক) এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্র ও খাদ্যশৃঙ্খল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
-
দূষণ: ড্রেজার ও বাল্কহেড থেকে নির্গত পোড়া তেল ও মবিল সরাসরি নদীর পানিতে মিশে পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’ থাকলেও চট্টগ্রামে তার কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে-মধ্যে লোকদেখানো দু-একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও মূল হোতারা সব সময়ই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযান শেষ হতেই আবারও শুরু হয় বালু উত্তোলনের মহোৎসব। প্রশাসনের এই ঢিলেঢালা ও উদাসীন ভূমিকার কারণেই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পরিবেশ সচেতন মহল অনতিবিলম্বে কর্ণফুলী নদী রক্ষায় টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং স্থায়ীভাবে ড্রেজার ও বালুর সেল সেন্টারগুলো উচ্ছেদের জোর দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো 






















