, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং ব্রাজিল দল থেকে নেইমারের অবসর, অবসান এক যুগের ‘মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না’ : পরীমণি কেমিক্যাল শ্যাম্পুতে ক্লান্তি? ঘরেই তৈরি করুন জবা ফুলের ভেষজ শ্যাম্পু অভিনয়ের পর ফুটবল মাঠে টাইগার শ্রফ, মুম্বাই এফসির হয়ে আত্মপ্রকাশ জনবান্ধব ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ার অঙ্গীকার কক্সবাজারের এসপির চকরিয়ায় সমন্বয় সভা: বন্যায় ঋণ আদায় স্থগিত, ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজারে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি দুর্ভোগ: প্রাণহানি ৩২, আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অন্যের সমালোচনা: আমাদের শিক্ষা কী?
কক্সবাজার

রামুতে ছেলের গুলিতে আহত বৃদ্ধ বাবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, ঘাতক সন্তান পলাতক

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের ছোড়া গুলিতে আহত মো. আয়াছ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার (৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মো. আয়াছ রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধেচুয়াপালং তেলখোলা এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক কলহ থেকে গুলিবর্ষণ

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টার দিকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজ বাড়িতে মো. আয়াছের সঙ্গে তার বড় ছেলে মো. জুবায়েরের (৩৭) তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

  • বাবার বুকে গুলি: কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জুবায়ের ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ে। এতে মো. আয়াছ গুরুতর আহত হন।

  • হাসপাতালে স্থানান্তর: ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত ছেলে আত্মগোপনে

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বড় ছেলে মো. জুবায়ের পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন বাবার জীবন তার নিজের সন্তানের হাতে ঝরে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নিন্দনীয় ঘটনা। দ্রুত এই ঘাতককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং তার ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।”

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে এবং জড়িতকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হৃদয়বিদারক এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ধেচুয়াপালং এলাকায় মাতম চলছে। দ্রুত ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং

কক্সবাজার

রামুতে ছেলের গুলিতে আহত বৃদ্ধ বাবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, ঘাতক সন্তান পলাতক

প্রকাশের সময় : ১১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের ছোড়া গুলিতে আহত মো. আয়াছ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার (৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মো. আয়াছ রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধেচুয়াপালং তেলখোলা এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক কলহ থেকে গুলিবর্ষণ

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টার দিকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজ বাড়িতে মো. আয়াছের সঙ্গে তার বড় ছেলে মো. জুবায়েরের (৩৭) তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

  • বাবার বুকে গুলি: কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জুবায়ের ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ে। এতে মো. আয়াছ গুরুতর আহত হন।

  • হাসপাতালে স্থানান্তর: ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত ছেলে আত্মগোপনে

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বড় ছেলে মো. জুবায়ের পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন বাবার জীবন তার নিজের সন্তানের হাতে ঝরে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নিন্দনীয় ঘটনা। দ্রুত এই ঘাতককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং তার ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।”

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে এবং জড়িতকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হৃদয়বিদারক এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ধেচুয়াপালং এলাকায় মাতম চলছে। দ্রুত ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।