, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ দেশের ১৫ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি পাকিস্তান বধের নায়ক মুশফিক, জিতলেন আইসিসি ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ পুরস্কার মেসিকে নিয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা জুন মাসেই তৃতীয়বার কাঁপল দেশ: ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিজ্ঞান কী বলছে? ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ, ৯ উইকেটের বড় জয় দীর্ঘ ৮ বছর পর ওটিটি সিরিজে বিন্দুর ‘রাজকীয়’ প্রত্যাবর্তন, প্রকাশ্যে এলো ‘হেডলাইন’-এর ট্রেইলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্বল না, আভিযানিক কৌশলে পরিবর্তন: র‍্যাব হ্যাটট্রিকে মেসির নতুন ইতিহাস: বিশ্বমঞ্চে ক্লোসকে ছুঁলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর
কক্সবাজার

রামুতে ছেলের গুলিতে আহত বৃদ্ধ বাবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, ঘাতক সন্তান পলাতক

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের ছোড়া গুলিতে আহত মো. আয়াছ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার (৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মো. আয়াছ রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধেচুয়াপালং তেলখোলা এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক কলহ থেকে গুলিবর্ষণ

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টার দিকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজ বাড়িতে মো. আয়াছের সঙ্গে তার বড় ছেলে মো. জুবায়েরের (৩৭) তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

  • বাবার বুকে গুলি: কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জুবায়ের ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ে। এতে মো. আয়াছ গুরুতর আহত হন।

  • হাসপাতালে স্থানান্তর: ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত ছেলে আত্মগোপনে

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বড় ছেলে মো. জুবায়ের পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন বাবার জীবন তার নিজের সন্তানের হাতে ঝরে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নিন্দনীয় ঘটনা। দ্রুত এই ঘাতককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং তার ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।”

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে এবং জড়িতকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হৃদয়বিদারক এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ধেচুয়াপালং এলাকায় মাতম চলছে। দ্রুত ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয়

নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

কক্সবাজার

রামুতে ছেলের গুলিতে আহত বৃদ্ধ বাবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, ঘাতক সন্তান পলাতক

প্রকাশের সময় : ১১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের ছোড়া গুলিতে আহত মো. আয়াছ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার (৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মো. আয়াছ রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধেচুয়াপালং তেলখোলা এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক কলহ থেকে গুলিবর্ষণ

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টার দিকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজ বাড়িতে মো. আয়াছের সঙ্গে তার বড় ছেলে মো. জুবায়েরের (৩৭) তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

  • বাবার বুকে গুলি: কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জুবায়ের ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ে। এতে মো. আয়াছ গুরুতর আহত হন।

  • হাসপাতালে স্থানান্তর: ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত ছেলে আত্মগোপনে

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বড় ছেলে মো. জুবায়ের পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন বাবার জীবন তার নিজের সন্তানের হাতে ঝরে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নিন্দনীয় ঘটনা। দ্রুত এই ঘাতককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং তার ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।”

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে এবং জড়িতকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হৃদয়বিদারক এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ধেচুয়াপালং এলাকায় মাতম চলছে। দ্রুত ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।