ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল বুধবার (৩ জুন) রাত থেকে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে এই জোরালো কার্যক্রম ও বিশেষ টহল শুরু করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাতভর মাইকিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি
অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার রাতভর সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করা হয়। এ সময় স্থানীয় সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অবৈধ কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিজিবি ক্যাম্প বা বিওপিকে (Border Outpost) অবহিত করার জন্য স্থানীয়দের অনুরোধ জানিয়েছে বিজিবি।
আধুনিক সরঞ্জামে নিবিড় নজরদারি
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সব কোম্পানি ও বিওপি এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত ও বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাতে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধি রুখতে হ্যান্ডমাইক, বাঁশি, টর্চলাইট, শক্তিশালী সার্চলাইট এবং নাইট ভিশন গগলসসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারিও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় আপসহীন বিজিবি
বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, “সীমান্তে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ বন্ধে আমরা বিশেষভাবে কাজ শুরু করেছি।”
তিনি আরও প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির এই ধরনের কঠোর অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

আকিমুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 




















