কক্সবাজারে আবারও আলোচনায় এসেছে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের চেষ্টার ঘটনা। এবার বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এনআইডি তৈরির উদ্দেশ্যে সরাসরি সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছে এক রোহিঙ্গা যুবক। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভাইয়ের পথ ধরে জালিয়াতির চেষ্টা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ রফিক দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন।
-
পরিকল্পনা: ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও এনআইডি সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে তিনি সম্প্রতি কক্সবাজারে আসেন।
-
পূর্বের ঘটনা: এর আগে তার আপন ভাই হারেজও একই কৌশলে এনআইডি ও পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে তার এনআইডি বাতিল করা হয়। এবার ভাইয়ের সেই পথ অনুসরণ করেই রফিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
সক্রিয় আন্তর্জাতিক দালালচক্র
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশি নাগরিক সেজে এনআইডি ও পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে।
-
মোটা অঙ্কের লেনদেন: এই চক্রের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের চুক্তি করে রফিক কক্সবাজারে এসেছে বলে জানা গেছে।
-
বর্তমান অবস্থান: বর্তমানে সে কক্সবাজার শহরের একটি ভাড়া বাসায় আত্মগোপন করে অবস্থান করছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট প্রদান শুধু সাধারণ কোনো অপরাধ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এক বিরাট হুমকি। কারণ এসব পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা বিদেশ গমন, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়।
সচেতন মহলের প্রশ্ন ও দাবি: রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনা বারবার সামনে আসলেও কেন পুরো নেটওয়ার্ক এখনো ভেঙে দেওয়া যাচ্ছে না? আর কতদিন জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠবে?
এই ঘটনায় জড়িত দালালচক্র, অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সহযোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

কক্সবাজার প্রতিনিধি 






















