ঠিক ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে ১৮ বছরের যে তরুণ ফুটবলারটির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হয়েছিল, সেই নেইমার জুনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করে সেলেসাওদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তিনি ইতি টানলেন তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।
যেখানে শুরু, সেখানেই শেষ
২০১০ সালের ১০ আগস্ট নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। দীর্ঘ ১৬ বছর পর একই মাঠে বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি খেলেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের শুরু ও শেষের গল্পটি যেন একই বিন্দুতে গিয়ে মিলল।
গতকাল নিজ শৈশবের ক্লাব সান্তোসের হয়ে ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়ের পর অবসরের বিষ বিষয়টি নিশ্চিত করে নেইমার বলেন:
নেইমারের বক্তব্য: “জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস তৈরি করেছি, খুব সুখী ছিলাম। আমার রক্ত ও জীবন দিয়েছি, হলুদ জার্সির জন্য সব সময় লড়াই করেছি; কিন্তু এখন আর আমি এটা চাই না।”
পরিসংখ্যান ও অর্জন
বিশ্ব ফুটবলে আলো ছড়ানো এই মহাতারকার নামের পাশে কোনো ব্যালন ডি’অর, বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকার ট্রফি না থাকলেও ফুটবলের গল্পে নিজের নামটি তিনি খোদাই করে নিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়:
-
গোল ও অ্যাসিস্ট: ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে করেছেন সর্বোচ্চ ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৮টি গোল।
-
আন্তর্জাতিক ট্রফি: ২০১৩ সালে ব্রাজিলের হয়ে জিতেছেন ‘ফিফা কনফেডারেশনস কাপ’।
-
ঐতিহাসিক অলিম্পিক সোনা: ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ব্রাজিলকে প্রথম অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণপদক এনে দেন তিনি।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গতি ও অনন্য নৈপুণ্যে ব্রাজিল দলের আক্রমণভাগকে একাই নেতৃত্ব দিয়েছেন এই সুপারস্টার।
বিতর্ক ও ক্লাব সান্তোসের প্রতি মনোযোগ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে নেইমার এখন থেকে পুরোপুরি মনোযোগ দেবেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। তবে ক্লাবে বর্তমানে সতীর্থ তরুণ খেলোয়াড়দের সাথে তাঁর বিবাদের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বলা হচ্ছিল, তিনি ক্লাবের জুনিয়র খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে নেইমার দাবি করেন, এটি একটি ‘কুচক্রী’ মহলের সাজানো গল্প। তিনি জানান, দলের পারফরম্যান্সের উন্নতি চাইতে গিয়ে তিনি শুধু দলকে আরও দায়িত্বশীল হতে বলেছিলেন, যা একটি মহল অন্যভাবে উপস্থাপন করেছে।
ব্রাজিলীয় ফুটবলের একটি অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও, বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয়ে নেইমারের ড্রিবলিং আর জাদুকরী ফুটবল চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

স্পোর্টস ডেস্ক 













