কক্সবাজারের মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ বাচ্চুর বিরুদ্ধে এক তরুণ ব্যবসায়ীর প্রজেক্ট জোরপূর্বক দখল ও কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ সালে করোনা কালীন সময়ে ‘বাচ্চু বাহিনী’ দিয়ে প্রজেক্টে ডাকাতি চালিয়ে তা জবরদখল করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তরুণ উদ্যোক্তা মো. ফারুক আজম। ৬ বছরের পুঞ্জীভূত লাভসহ এই ঘটনার সঠিক বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালে ধলঘাটার বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকার সাধারণ মানুষ জোয়ারের পানিতে চরম কষ্ট ভোগ করছিলেন। তখন নিজ অর্থ ব্যয় করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেন স্থানীয় তরুণ ব্যবসায়ী মো. ফারুক আজম। এতে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয় এবং এলাকার মানুষ স্বস্তিতে লবণ চাষ করতে পারে। এ নিয়ে সে সময় স্থানীয় পত্রিকায় প্রশংসামূলক সংবাদও প্রকাশিত হয়।
পরবর্তী সময়ে চিংড়ি মৌসুমে এলাকার জমির মালিকরা খুশি হয়ে তাকে নির্ধারিত খাজনা পরিশোধ সাপেক্ষে পরবর্তী ৩ বছরের জন্য (২০১৭-২০২০ সাল পর্যন্ত) মাদরাসা ঘোনা (প্রকাশ ফাটা ঘোনা) এলাকায় চিংড়ি প্রজেক্ট করার অনুমতি দেন। উদ্যোক্তা ফারুক আজম সবার মতামতের ভিত্তিতে সেখানে প্রজেক্ট শুরু করে স্থানীয় কিছু মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেন।
ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা মো. ফারুক আজম নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “প্রজেক্ট শুরু হওয়ার পর থেকেই আহসান উল্লাহ বাচ্চু আমার কাছে চাঁদা দাবি করতে শুরু করে। আমার কথা ছিল—আমি তো জমির মালিকদের নিয়মিত খাজনা দিচ্ছি, প্রজেক্টে বড় অংকের বিনিয়োগ করেছি, মানুষের কর্মসংস্থান করেছি, তাহলে তাকে কেন চাঁদা দেব? চাঁদা আদায় করতে না পেরে সে আমাকে ঠেকানোর নানা ফন্দি আঁটতে থাকে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারীর লকডাউনের সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে আহসান উল্লাহ বাচ্চু ও তার ভগ্নিপতিসহ ও এলাকার আরেক সন্ত্রাসী নুরুল হক লেসুসহ আরো কিছু চোর – ডাকাত, এলাকার চিহ্নিত চোর-ডাকাতরা দলবল নিয়ে প্রজেক্টে সশস্ত্র ডাকাতি চালায়। তার লোকজনকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। সে সময় লকডাউন ও পরিবেশ প্রতিকূল থাকায় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি। নিরুপায় হয়ে তখন তাকে চুপ থাকতে হয়েছিল।
উদ্যোক্তা ফারুক আজম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার সেই অর্থ আসমান থেকে ঝড়ে পড়েনি। ব্যাংক ঋণ, ধার-দেনা এবং নিজের পুঁজি মিলিয়ে আমাকে প্রজেক্ট করতে হয়েছিল। আজ সবকিছু শেষ, আমি ৬ বছরের লাভসহ আমার দেড় কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাই। এটি একটি আলোচিত ঘটনা, প্রশাসন চাইলে পুনরায় তদন্ত করে দেখতে পারে, আমি সব প্রমাণ নিয়ে প্রস্তুত আছি।”
একজন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান ও পরিপূর্ণ ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি জনগণের কাছে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও ক্ষতিপূরণ আদায় নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা 










